ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সড়ক দখলমুক্ত হওয়ায় স্বস্তিতে পথচারীরা, পুনর্বাসনের দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 1, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

ভুলতা-গাউছিয়ায় যানজট কমেছে, জীবিকা হারিয়ে দিশেহারা শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী

সড়ক দখলমুক্ত হওয়ায় স্বস্তিতে পথচারীরা, পুনর্বাসনের দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা ভুলতা-গাউছিয়ায় সড়ক দখলমুক্ত হওয়ায় যান চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা দোকানপাট উচ্ছেদের পর জীবিকা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। একদিকে যানজটমুক্ত সড়কে স্বস্তি, অন্যদিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবেন, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে নিম্ন আয়ের এসব মানুষের।

গত ১৪ অক্টোবর সড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় যানজট, সড়ক দখল ও অবৈধ স্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি ছিল। উচ্ছেদ অভিযানের পর সড়কে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এর প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকায়।

উচ্ছেদে বন্ধ জীবিকার পথ

ভুলতা-গাউছিয়া এলাকার সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ। কেউ চা-বিস্কুট, কেউ ফলমূল, আবার কেউ পোশাক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে সংসার চালাতেন। এসব দোকানই ছিল অনেক পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী খোকন মিয়া বলেন, “আমি মাস্টার্স পাস করে দুই বছর চাকরির পেছনে ঘুরেছি। কিন্তু সফল না হওয়ায় নিজেই ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করি। এই দোকানটিই ছিল আমার জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। এখন দোকানটি না থাকায় কীভাবে সংসার চালাব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

উচ্ছেদের পর অনেক ব্যবসায়ী নতুন করে কোথায় ব্যবসা শুরু করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না। নতুন জায়গা ভাড়া নেওয়ার মতো সামর্থ্যও নেই অনেকের। দীর্ঘদিনের পরিচিত ক্রেতা ও ব্যবসার পরিবেশ হারিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

যানজটে স্বস্তি, সংসারে অস্বস্তি

স্থানীয়দের মতে, সড়ক দখলমুক্ত থাকলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল সহজ হয়। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। তবে যারা দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে ছোট ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাদের বিষয়টিও মানবিকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কারণ, এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর প্রতিদিনের সামান্য আয় দিয়েই চলত পরিবারের খাবার, বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসার খরচ। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন আর্থিক সংকটে পড়েছে।

পুনর্বাসনের দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা সড়কে যানজট সৃষ্টি করতে চান না। সড়ক দখলমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তাও তারা অস্বীকার করছেন না। তবে উচ্ছেদের পাশাপাশি তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান কিংবা নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা করার সুযোগ করে দেওয়া হলে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার পথ তৈরি হবে।

সচেতন মহলের মতে, সড়ক দখলমুক্ত রাখা যেমন জনস্বার্থে জরুরি, তেমনি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে তাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসার সুযোগ কিংবা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে সংকট অনেকটাই কমতে পারে।

উন্নয়নের সুফল পৌঁছাক সবার ঘরে

ভুলতা-গাউছিয়ায় সড়ক উচ্ছেদের ফলে যান চলাচলে যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা দীর্ঘদিনের ব্যবসা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীরা।

উন্নয়ন মানে শুধু সড়ক দখলমুক্ত করা কিংবা যানজট কমানো নয়; উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের জীবনেও পৌঁছে দেওয়া। তাই জনস্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

এখন প্রশ্ন—ভুলতা-গাউছিয়ার সড়কে যাতায়াতে স্বস্তি ফিরেছে, কিন্তু জীবিকা হারানো মানুষগুলোর মুখে স্বস্তি ফিরবে কবে?


নিউজটি আপডেট করেছেন : Public Post News

কমেন্ট বক্স